পশ্চিমবঙ্গে ১৩৬টি ফার্মাসি কলেজের অনুমোদন বাতিল: ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

WhatsApp Channel (Join Now) Join Now
Telegram Group (Join Now) Join Now

পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সংসদ রাজ্যের ১৩৬টি ফার্মাসি কলেজে ‘ফার্মাসির ডিপ্লোমা (ডি. ফার্ম)’ কোর্সের অনুমোদন বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তে প্রায় ১২ হাজার ছাত্রছাত্রীর স্বপ্ন ভেঙে গেল, কারণ এই সার্টিফিকেট ছাড়া তারা ফার্মাসিস্ট হিসেবে কাজ করতে বা ওষুধের দোকান চালাতে পারবে না।

কেন বাতিল হলো অনুমোদন?

নিয়ম অনুযায়ী, ফার্মাসির ডিপ্লোমা কোর্স চালানোর অনুমোদন দেয় পশ্চিমবঙ্গ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন সংসদ, আর কলেজগুলির স্বীকৃতি দেয় ফার্মাসি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (PCI)। তবে ফার্মাসি কলেজগুলোর জন্য নির্দিষ্ট পরিকাঠামো থাকা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত –

প্রতি কলেজে ৫০ বর্গমিটার করে ৫টি ল্যাবরেটরি (২০২০ সালের পরে হলে ৭৫ বর্গমিটার করে)১০০ বর্গমিটারের মেশিন রুম২৫ বর্গমিটারের অ্যাসেপটিক রুম২০ বর্গমিটারের স্টোর রুমঅধ্যক্ষের জন্য ২০ বর্গমিটারের রুমফ্যাকাল্টি রুম, অফিস স্পেস, লাইব্রেরি, মিউজিয়ামসহ আরও ২০০ বর্গমিটার জায়গাপুরো ক্যাম্পাসের আকার হতে হবে প্রায় আড়াই একরকলেজের জমি অবশ্যই পরিচালন ট্রাস্টের নামে হতে হবে, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে অনুমোদন দেওয়া হবে না

অনেক কলেজে এই পরিকাঠামো ঠিকমতো না থাকায় অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া, অনেক প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে D.El.Ed এবং B.Ed কোর্সও চালাত, যা নিয়মবিরুদ্ধ।

আরও পড়ুনঃ জমি বাড়ির সব দলিল এখন মাত্র ৫ মিনিনটে অনলাইন পাবেন পড়ুন ।

ছাত্র-শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া কী রয়েছে

এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছেন ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকরা। অনেক কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে, যথাযথ পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও তাদের অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে। কলেজ পরিচালকদের বক্তব্য, “আমাদের উন্নতির সুযোগ দেওয়া উচিত। অনুমোদন বাতিল হওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা অন্য রাজ্যের কলেজে যেতে বাধ্য হবে, যা রাজ্যের শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর।”

শিক্ষকদেরও আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের ফলে তারা কর্মসংস্থান হারাতে পারেন। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও দাবি করেছে যে, PCI যদি নতুন করে পরিদর্শনে আসে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বর্তমানে সরকারের কী অবস্থান

WhatsApp Channel (Join Now) Join Now
Telegram Group (Join Now) Join Now

কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন, “যেসব কলেজের পরিকাঠামো নেই, সেগুলোর অনুমোদন বাতিল হবেই।” তবে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হওয়ায় বিষয়টি আরও পর্যালোচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কতটা পড়বে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত, হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর ভবিষ্যৎ এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ওবিসি মামলার রায় ২ ০ ২ ৫ আবার ৪ মাস পিছিয়ে গেলো ?
জেলা পুলিশে চাকরির আবেদন চলছে বিস্তারিত পড়ুন।

Share post
যুক্ত হন আমাদের সাথে

Leave a Comment